জন্মগত হার্টের রোগের কারণ ও চিকিৎসা

“জন্মগত হার্টের রোগের কারণ ও চিকিৎসা” – ডা. দেবশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা (পেডিয়াট্রিক ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট, কলকাতা, ভারত)

“জন্মগত হার্টের রোগের কারণ ও চিকিৎসা” – ডা. দেবশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা (পেডিয়াট্রিক ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট, কলকাতা, ভারত)

নবজাতক শিশুর কান্নায় যেমন মুখরিত হয় পুরো ঘর, তেমনই তার সামান্যতম শারীরিক অসুস্থতাও বাবা-মায়ের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দেয়। শিশুদের নানা ধরণের শারীরিক সমস্যার মধ্যে হৃদযন্ত্র বা হার্টের সমস্যা অন্যতম সংবেদনশীল এবং উদ্বেগের বিষয়। যখন কোনো শিশু জন্ম থেকেই হার্টের কোনো গঠনগত ত্রুটি নিয়ে পৃথিবীতে আসে, তখন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় তাকে জন্মগত হৃদরোগ বলা হয়।

নমস্কার, আমি একজন কলকাতায় শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ (Pediatric Cardiologist) ডঃ দেবশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় | দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আমি শিশুদের হৃদরোগের চিকিৎসার সাথে যুক্ত আছি। আমার কর্মজীবনে প্রতিদিন বহু মা-বাবা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন মুখে তাদের সন্তানকে নিয়ে আমার কাছে আসেন জন্মগত হার্টের রোগের চিকিৎসা করাতে |

আজ এই ব্লগের মাধ্যমে আমি অত্যন্ত সহজ ভাবে আপনাদের সামনে তুলে ধরব শিশুদের জন্মগত হার্টের রোগ কী, এর সম্ভাব্য কারণসমূহ, সঠিক রোগ নির্ণয়ের উপায় এবং আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা। একজন কলকাতায় শিশুদের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমার মূল উদ্দেশ্য হলো সঠিক সময়ে সঠিক সচেতনতা তৈরি করে প্রতিটি শিশুর হার্টকে সুরক্ষিত রাখা।

শিশুদের জন্মগত হার্টের রোেগ কী? (What is Congenital Heart Disease in Children)

 

চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় জন্মগত হার্টের রোগকে বলা হয় ‘কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ’ (Congenital Heart Disease বা CHD)। এটি হলো এমন কিছু গাঠনিক ত্রুটি বা অসঙ্গতি, যা শিশু মায়ের গর্ভে থাকার সময়ই তার হৃদযন্ত্রের বিকাশের স্তরে তৈরি হয়। সহজ কথায়, শিশু যখন ভূমিষ্ঠ হয়, তখন থেকেই তার হার্টের গঠন, অলিন্দ বা নিলয়ের মধ্যবর্তী দেওয়াল, রক্তনালী কিংবা হার্টের বাল্বে কোনো না কোনো ত্রুটি থেকে যায়।

সাধারণ মানুষ একে সহজ ভাষায় ‘হার্টে ফুটো’ (Hole in the Heart) বললেও, এর বিস্তৃতি অনেক বড়। শিশুদের জন্মগত হার্টের রোগ প্রধানত দুই প্রকারের হতে পারে:

১. সায়ানোটিক হার্ট ডিজিজ (Cyanotic Heart Disease): 

যেখানে হার্টের ত্রুটির কারণে শরীরে অক্সিজেনের অভাব ঘটে এবং শিশুর হাত, পা, ঠোঁট ও গায়ের রঙ নীলচে হয়ে যায় (যেমন- টেট্রালজি অফ ফ্যালো বা TOF, TAPVC)।

২. অ্যাসায়ানোটিক হার্ট ডিজিজ (Acyanotic Heart Disease): 

যেখানে শিশুর গায়ের রঙ স্বাভাবিক থাকে কিন্তু হার্টের ভেতরে রক্তের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয় (যেমন- ASD, VSD, PDA)।

শিশুদের জন্মগত হার্টের রোগের কারণ (Causes of Congenital Heart Disease in Children)

চিকিৎসা বিজ্ঞান আজ অনেক উন্নত হলেও, আমি একজন কলকাতায় জন্মগত হৃদরোগের চিকিৎসক হিসেবে আপনাদের একটি বাস্তব সত্য জানাতে চাই। সমস্ত গবেষণার পর দেখা গেছে যে, মোট জন্মগত হার্টের রোগে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে মাত্র ২% থেকে ৩% শিশুর ক্ষেত্রে আমরা সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ খুঁজে পাই। বাকি ৯৭% থেকে ৯৮% শিশুর ক্ষেত্রে এই রোগটি কেন হয়, তার সুনির্দিষ্ট কারণ আজও সম্পূর্ণ অজানা (Idiopathic)।

তবে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় কিছু বিশেষ ‘রিস্ক ফ্যাক্টর’ বা ঝুঁকিপূর্ণ কারণ চিহ্নিত করা গেছে, যা গর্ভস্থ ভ্রূণের হার্ট তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে। এগুলোকে আমরা মূলত তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করতে পারি:

১. গর্ভবতী মায়ের শারীরিক অবস্থা ও রোগ (Maternal Risk Factors) গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস (First Trimester) শিশুর হার্ট গঠনের জন্য সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়। এই সময়ে মায়ের শরীরের নিম্নলিখিত পরিস্থিতিগুলো শিশুর হার্টের ক্ষতি করতে পারে:

  • ডায়াবেটিস (টাইপ ১ এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিস): কোনো মহিলা যদি গর্ভধারণের আগে থেকেই ডায়াবেটিসে ভোগেন এবং তার রক্তের শর্করার মাত্রা (Sugar Control) নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তবে তার গর্ভস্থ সন্তানের হার্টের রোগ নিয়ে জন্মানোর ঝুঁকি সাধারণের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে যায়।

  • ভাইরাল ইনফেকশন বা সংক্রমণ: গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসের মধ্যে মায়ের শরীরে যদি জার্মান মিজেলস (রুবেলা/Rubella) বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো মারাত্মক কোনো ভাইরাস সংক্রমণ ঘটে, তবে তা ভ্রূণের হার্টের গঠনে সরাসরি আঘাত হানে।

  • ইনফ্লামেটরি ডিজিজ (প্রদাহজনিত রোগ): মায়ের যদি ‘সিস্টেমিক লুপাস এরিথমেটোসিস’ (SLE) বা সংক্ষেপে লুপাসের মতো অটোইমিউন ইনফ্লামেটরি রোগ থাকে (যার লক্ষণ জয়েন্ট পেইন, স্কিন র্যাশ বা জ্বর), তবে গর্ভস্থ শিশুর ‘জন্মগত হার্ট ব্লক’ (Congenital Heart Block) এর মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।

  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন (Major Drug Intake): গর্ভাবস্থায় নিজের ইচ্ছামতো ওভার-দ্য-কাউন্টার (OTC) ওষুধ খাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। আমরা সর্দি-জ্বর বা ব্যথার জন্য যে সাধারণ ‘আইবুপ্রোফেন’ (Ibuprofen) খাই, তা গর্ভাবস্থায় নিলে শিশুর হার্টের ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া মৃগী রোগ (Epilepsy) বা ডিপ্রেশনের ওষুধ এবং তরুণীদের ব্রণের (Acne) চিকিৎসার জন্য বহুল ব্যবহৃত ‘রেটিনোইক অ্যাসিড’ (Retinoic Acid) ওষুধটি ভ্রূণের হার্টের ত্রুটি তৈরির জন্য সরাসরি দায়ী।

  • অ্যালকোহল ও ধূমপানের আসক্তি: গর্ভাবস্থায় কোনো মা যদি মদ্যপান করেন, তবে শিশুর শরীরে ‘ফিটাল অ্যালকোহল সিন্ড্রোম’ (Fetal Alcohol Syndrome) দেখা দিতে পারে, যার অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো জন্মগত হার্টের অসুখ।

২. পারিবারিক ও বংশগত ইতিহাস (Family History) যদি কোনো বাবা-মায়ের নিজেদের শৈশবে কোনো জন্মগত হার্টের রোগ থেকে থাকে এবং পরবর্তীতে চিকিৎসার মাধ্যমে তারা সুস্থ হয়েছেন, তবে তাদের সন্তানদের মধ্যেও এই রোগটি বংশগতভাবে স্থানান্তরিত হওয়ার একটি মাঝারি থেকে উচ্চ মাত্রার ঝুঁকি বজায় থাকে।

৩. ভ্রূণের নিজস্ব জিনগত কারণ (Fetal Risk Factors)

  • ক্রোমোজোম ঘটিত রোগ: ডাউন সিন্ড্রোম (Down Syndrome), টার্নার সিন্ড্রোম (Turner Syndrome) বা নুনান সিন্ড্রোম (Noonan Syndrome) এর মতো জিনগত বা ক্রোমোজোমের অসঙ্গতি নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের মধ্যে জন্মগত হার্টের ত্রুটির হার অত্যন্ত বেশি থাকে।

  • একাধিক অঙ্গের ত্রুটি (Multiple Organ System Defects): কোনো গর্ভস্থ ভ্রূণের যদি অন্যান্য অঙ্গের জন্মগত সমস্যা যেমন-কিডনির অসুখ (Polycystic Kidney), পা বাঁকা হওয়া (Congenital Talipes/Clubfoot) কিংবা ঠোঁট ও তালু কাটা (Cleft Lip & Cleft Palate) থাকে, তবে তাদের হার্টেও ডিফেক্ট থাকার সম্ভাবনা প্রবল হয়।

জন্মগত হার্টের রোগ নির্ণয় (Diagnosis of Congenital Heart Disease)

জন্মগত হার্টের চিকিৎসার ক্ষেত্রে সফলতার মূল ভিত্তি হলো সঠিক সময়ে রোগ সনাক্তকরণ। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার কল্যাণে আমরা এখন শিশু জন্মের আগেই তার হার্টের অবস্থা নিখুঁতভাবে জেনে নিতে পারি।

১. গর্ভকালীন রোগ নির্ণয় বা ফিটাল ইকোকার্ডিওগ্রাফি (Fetal Echocardiography): 

এটি গর্ভাবস্থার ১৮ থেকে ২৪ সপ্তাহের মধ্যে করা গর্ভস্থ ভ্রূণের হার্টের একটি বিশেষ আল্ট্রাসাউন্ড বা ইকো পরীক্ষা। যদি মায়ের ডায়াবেটিস থাকে, পরিবারে হার্টের রোগের ইতিহাস থাকে, কিংবা সাধারণ অ্যানোমালি স্ক্যানে (Anomaly Scan) কোনো সন্দেহ দেখা যায়, তবে আমি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে ফিটাল ইকোকার্ডিওগ্রাফি করার পরামর্শ দিই। এর মাধ্যমে আমরা শিশুর জন্মের আগেই তার হার্টের রোগ ধরে ফেলতে পারি, যা জন্মের পর তাৎক্ষণিক জীবনদায়ী চিকিৎসা শুরু করতে সাহায্য করে।

২. জন্মের পর রোগ নির্ণয় ও স্ক্রিনিং (Postnatal Echo Screening): 

যদি গর্ভাবস্থায় কোনো পরীক্ষা করা না হয়ে থাকে, তবে জন্মের পর শিশুর কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণের দিকে নজর দিতে হবে। যেমন- দুধ খাওয়ার সময় হাঁপিয়ে যাওয়া ও অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, বারবার ঠান্ডা লাগা বা নিউমোনিয়া হওয়া, কান্নার সময় শরীর বা ঠোঁট নীল হয়ে যাওয়া এবং সঠিক নিয়মে ওজন বৃদ্ধি না পাওয়া। একজন কলকাতায় নবজাতকের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমার পরামর্শ, শিশুর মধ্যে এই ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে বা জন্মের সময় চিকিৎসকের স্টেথোস্কোপে কোনো অস্বাভাবিক শব্দ (Murmur) ধরা পড়লে অবিলম্বে একটি পেডিয়াট্রিক ইকোকার্ডিওগ্রাফি (Pediatric Echo) করিয়ে নেওয়া উচিত।

রোগ নির্ণয় এবং আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা ও চিকিৎসার উপায়সমূহ

একটা সময় ছিল যখন বাচ্চার হার্টে ফুটো বা ত্রুটি মানেই ধরে নেওয়া হতো অবধারিত মৃত্যু। কিন্তু বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতির ফলে জন্মগত হার্টের রোগ এখন সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আমরা মূলত দুটি ভাগে ভাগ করি:

১. বিনা অস্ত্রোপচারে চিকিৎসা (Interventional Cardiology) এটি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক পরম আশীর্বাদ। এখন হার্টের অনেক ফুটো (যেমন ASD, VSD, PDA) বন্ধ করার জন্য বুক কাটার বা ওপেন-হার্ট সার্জারির কোনো প্রয়োজন হয় না। এই পদ্ধতিতে কুঁচকির একটি সূক্ষ্ম রক্তনালীর মধ্য দিয়ে ক্যাথেটার প্রবেশ করিয়ে হার্ট পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয় এবং বিশেষ ছাতা বা ‘ডিভাইস ক্লোজার’ (Device Closure) পদ্ধতির মাধ্যমে নিখুঁতভাবে ফুটোটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে শিশুর শরীরে কোনো কাটার দাগ থাকে না, রক্তপাতের ঝুঁকি থাকে না এবং অস্ত্রোপচারের মাত্র ২-৩ দিনের মধ্যে শিশু পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে পারে।

২. উন্নত পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক সার্জারি (Advanced Pediatric Cardiac Surgery) যেসব ক্ষেত্রে রোগটি অত্যন্ত জটিল (যেমন-রক্তনালীর ভুল বিন্যাস বা সিঙ্গেল ভেন্ট্রিকল ফিজিয়োলজি), সেখানে অভিজ্ঞ পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক সার্জনের মাধ্যমে ওপেন-হার্ট সার্জারি করা হয়। বর্তমানে অত্যন্ত আধুনিক পেডিয়াট্রিক আইসিইউ (ICU) ব্যাকআপ এবং মাইক্রো-সার্জারি কৌশলের কল্যাণে মাত্র কয়েক দিন বয়সী বা কয়েক কেজি ওজনের নবজাতকেরও অত্যন্ত জটিল সার্জারি (যেমন- Fontan বা TAPVC সংশোধন) সফলভাবে করা সম্ভব হচ্ছে।

কলকাতায় জন্মগত হার্টের চিকিৎসার ক্লিনিক ও হাসপাতাল

আপনার শিশুর যদি হার্টের কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তবে সঠিক পরিকাঠামোযুক্ত হাসপাতালে চিকিৎসা করানো অত্যন্ত জরুরি। পূর্ব ভারতের প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে কলকাতায় জন্মগত হৃদরোগের চিকিৎসার চমৎকার সুব্যবস্থা রয়েছে।

শহরের শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মুকুন্দপুরের আর. এন. টেগোর হসপিটাল (R.N. Tagore Hospital), যেখানে বিশ্বমানের পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি বিভাগ রয়েছে এবং ডক্টর দেবশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত চিকিৎসা করছেন। এছাড়া বি. এম. বিড়লা হার্ট রিসার্চ সেন্টার (B.M. Birla Heart Research Centre) এবং অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটালস (Apollo Multi-specialty Hospitals)-এ শিশুদের হার্টের চিকিৎসার জন্য অত্যাধুনিক ক্যাথল্যাব ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (PICU) রয়েছে। সরকারি স্তরে এসএসকেএম হাসপাতাল (SSKM) এবং আর জি কর মেডিকেল কলেজেও অত্যন্ত কম খরচে বা সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে এই চিকিৎসা সফলভাবে করা হচ্ছে।

এই হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে আপনি এমন অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ পেতে পারেন, যাঁরা বিশ্বস্ত কলকাতায় শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, এবং কলকাতায় নবজাতকের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে অত্যন্ত সুপরিচিত। যদি আপনার শিশুর জন্মের পরপরই কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তবে একজন নির্ভরযোগ্য কলকাতায় জন্মগত হৃদরোগের চিকিৎসক-এর অধীনে রেখে অবিলম্বে কলকাতায় জন্মগত হৃদরোগের চিকিৎসা শুরু করা উচিত।

উপসংহার: সচেতনতাই শিশুর সুরক্ষাকবচ

পরিশেষে বলা যায়, শিশুর হার্টের অসুখ ধরা পড়লে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং আধুনিক চিকিৎসার সহায়তায় এই শিশুরা সাধারণ অন্য বাচ্চাদের মতোই সুস্থ, সুন্দর এবং দীর্ঘময় কর্মক্ষম জীবন উপহার পেতে পারে। মায়েদের উচিত গর্ভাবস্থায় নিজের যত্ন নেওয়া এবং শিশুর জন্মের পর কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করা।

আপনাদের সুবিধার্থে ডক্টর দেবশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের এই অত্যন্ত তথ্যবহুল আলোচনাটির মূল ভিডিওটি দেওয়া হলো, যা থেকে আপনারা এই রোগটির আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে সরাসরি আরও বিস্তারিত জানতে পারবেন |

জন্মগত হার্টের রোগের কারণ ও চিকিৎসা সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQs)

ডক্টর দেবশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের অ্যাপয়েন্টমেন্ট কীভাবে বুক করব?

ডক্টর দেবশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করার জন্য সরাসরি +918585077458 নম্বরে ফোন করুন।

জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের কি সারাজীবন ওষুধ খেতে হয় বা চিকিৎসকের অধীনে থাকতে হয়?

না, সব বাচ্চার ক্ষেত্রে সারাজীবন ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হয় না। যদি হার্টের ফুটো বা ত্রুটি ছোট হয় এবং তা ডিভাইস ক্লোজার বা সার্জারির মাধ্যমে সফলভাবে সারিয়ে তোলা যায়, তবে শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায় এবং কিছুদিন পর সমস্ত ওষুধ বন্ধ হয়ে যায়। তবে, হার্টের গঠন কেমন ছিল তার ওপর ভিত্তি করে জটিল কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী ওষুধ লাগতে পারে। চিকিৎসা সফল হলেও বছরে অন্তত একবার বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত রুটিন চেকআপ বা ফলো-আপে থাকা উচিত।

হার্টের সমস্যা থাকা শিশুদের কি সাধারণ সব টিকা বা ভ্যাকসিন (Vaccines) দেওয়া যায়?

হ্যাঁ, জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের জন্য সঠিক সময়ে সমস্ত রুটিন টিকাকরণ (Routine Vaccination) অত্যন্ত জরুরি। কারণ এই শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা কম থাকে এবং ফুসফুসে সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে যদি শিশুর কোনো মেজর হার্ট সার্জারি বা অপারেশন হওয়ার কথা থাকে, তবে অপারেশনের ঠিক আগে বা পরে কোনো লাইভ ভ্যাকসিন (যেমন- MMR, চিকেনপক্স) দেওয়া যাবে কি না, তা আপনার কলকাতায় শিশুদের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ-এর কাছ থেকে নিশ্চিত করে জেনে নেওয়া ভালো।

এই রোগে আক্রান্ত শিশুদের ডায়েট বা খাবার-দাবার কেমন হওয়া উচিত?

যেহেতু এই শিশুরা দুধ খাওয়ার সময় বা খাবার চিবিয়ে খাওয়ার সময় দ্রুত হাঁপিয়ে ওঠে, তাই এদের খাবার হওয়া উচিত পুষ্টিকর, উচ্চ ক্যালরিযুক্ত এবং সহজে হজম হয় এমন।

  • একবারে বেশি না খাইয়ে বারবার অল্প অল্প করে (Frequent small meals) খাওয়ানো উচিত।
  • নবজাতকদের ক্ষেত্রে অনেক সময় সাধারণ ফর্মুলা বা মায়ের দুধের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শে বিশেষ 'হাই-ক্যালরি ফর্টিফায়ার' মেশানো হতে পারে।
  • একটু বড় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন (ডিম, মাছ, ডাল) এবং পুষ্টিকর ফ্যাট রাখা দরকার, যা তাদের সঠিক ওজনে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।

গর্ভাবস্থায় কোনো বিশেষ সতর্কতার মাধ্যমে কি শিশুর এই হার্টের রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব?

শতভাগ প্রতিরোধ করা না গেলেও, কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে এই ঝুঁকি অনেকখানি কমানো যায়:

  • পরিকল্পিত গর্ভাবস্থা: মা হওয়ার পরিকল্পনা করার আগেই রুবেলা (German Measles) ভ্যাকসিন নেওয়া আছে কি না তা নিশ্চিত করুন।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: গর্ভাবস্থায় মায়ের রক্তে শর্করার মাত্রা বা ডায়াবেটিস কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
  • ওষুধে সতর্কতা: চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া গর্ভাবস্থায় গলার সাধারণ বড়ি বা ব্যথানাশক ওষুধও খাওয়া যাবে না।
  • নেশামুক্তি ও রেডিয়েশন: গর্ভাবস্থায় ক্যাফেইন কমিয়ে দেওয়া এবং ধূমপান, মদ্যপান বা ক্ষতিকর এক্স-রে রেডিয়েশন থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা আবশ্যক।

আমি কীভাবে ডক্টর দেবশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের সাথে কনসালটেশন বা পরামর্শ করতে পারি?

ডক্টর দেবশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের সাথে কনসালটেশন বা পরামর্শের সময় নির্ধারণ করার জন্য আপনি কলকাতার আর. এন. টেগোর ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ কার্ডিয়াক সায়েন্সেস (R N Tagore International Institute of Cardiac Sciences)-এ যোগাযোগ করতে পারেন এবং সেখানে অ্যাপয়েন্টমেন্টের উপলব্ধতা (Availability) সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নিতে পারেন কিংবা কল করতে পারেন +918585077458 নম্বরে।

Disclaimer: এই নিবন্ধটি কেবল তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি কোনোভাবেই চিকিৎসাসংক্রান্ত পরামর্শ হিসেবে বিবেচিত নয়। আপনার ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতির সঠিক নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য সর্বদা একজন যোগ্যতাসম্পন্ন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

অন্যান্য ব্লগগুলো পড়ুন:

Follow Me on Youtube & Facebook